Bibhutibhushan Bandyopadhyay
Biography
শিক্ষা ও পেশা: অভাবের সঙ্গে লড়াই করে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মূলত একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু তাঁর মনের গভীরে ছিল এক চিরকালীন যাযাবর বা অভিযাত্রী সত্তা। কালজয়ী কাজ: 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী কাজ হলো তাঁর 'অপু-দুর্গা' কেন্দ্রিক উপন্যাসগুলো। পথের পাঁচালী (১৯২৯): গ্রামবাংলার দরিদ্র এক পরিবারের আনন্দ-বেদনার এই কাহিনী বিশ্বসাহিত্যের সম্পদ। এটি এবং এর পরবর্তী অংশ 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় তাঁর বিশ্ববিখ্যাত 'অপু ট্রিলজি' (Apu Trilogy) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। অপু চরিত্র: অপুর শৈশব থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত যে মানসিক বিবর্তন তিনি দেখিয়েছেন, তা অনন্য। আরণ্যক: প্রকৃতির মহাকাব্য বিভূতিভূষণের আরেকটি শ্রেষ্ঠ কাজ হলো 'আরণ্যক'। এটি বিহারের গভীর অরণ্য, সেখানকার মানুষের জীবন এবং প্রকৃতির আদিম রূপ নিয়ে লেখা। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি মানুষের এক গভীর প্রেমপত্র। কিশোর সাহিত্য ও অ্যাডভেঞ্চার তিনি কেবল গ্রামবাংলা নিয়ে লেখেননি, কিশোরদের জন্য লিখেছেন বিশ্বমানের অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী: চাঁদের পাহাড় (Chander Pahar): আফ্রিকার দুর্গম জঙ্গল, আগ্নেয়গিরি আর রহস্যময় 'বুনিপ'-এর সেই কাহিনী আজও বাঙালি কিশোরদের রক্তে দোলা দেয়। শঙ্কর আর ডিয়েগো আলভারেজের সেই অমর জুটিকে আমরা কেউ ভুলতে পারি না। মরণের ডঙ্কা বাজে: ইউরোপের পটভূমিতে লেখা তাঁর আরেকটি রোমাঞ্চকর কাজ। ভৌতিক ও অলৌকিক গল্প বিভূতিভূষণ অলৌকিক এবং ভৌতিক গল্প লিখতেও অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তবে তাঁর ভূত মানে কেবল ভয় নয়, তার পেছনে থাকতো এক গভীর মমতা বা মনস্তত্ত্ব। তাঁর 'তরণী মাঝির গল্প', 'মায়া', এবং 'অভিশপ্ত'-র মতো গল্পগুলো আজও পাঠকদের হাড়হিম করে দেয়। রেডিও মির্চির 'সানডে সাসপেন্স'-এ তাঁর 'তরণী মাঝির গল্প' বা 'মেঘ-মল্লার' জাতীয় গল্পগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সৃষ্টি উপন্যাস: 'আদর্শ হিন্দু হোটেল', 'ইছামতী' (যার জন্য তিনি মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার পান), 'দেবযান'। দেবযান: এই উপন্যাসে তিনি মৃত্যুর পরবর্তী জগত এবং আধ্যাত্মিকতা নিয়ে এক বিস্ময়কর জগত তৈরি করেছেন।